ট্রাম্প কি তবে যুদ্ধের মরণফাঁদে? আমেরিকাকে নিয়ে দুর্ধর্ষ সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

ইরান ও আমেরিকার দ্বৈরথ এবার এক ভয়ংকর মোড় নিতে চলেছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রবার্ট পাপে দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এক ‘এস্কেলেশন ট্র্যাপ’ বা উত্তেজনার মরণফাঁদে পা দিয়েছেন। পাপে সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন নৌসেনা বা মেরিনরা ইরানি জলসীমায় পৌঁছানো মাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং এই যুদ্ধ কয়েক গুণ লম্বা হতে পারে।
ট্রাম্পের কৌশলে কি সময়ের খেলা?
হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন উপদেষ্টা পাপের মতে, ট্রাম্প বর্তমানে যে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, তা আসলে রণকৌশলের অংশ। মার্কিন মেরিনরা ইরানে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় কিনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প যতক্ষণ না পর্যন্ত সমুদ্রে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজগুলো ফিরিয়ে নিচ্ছেন, ততক্ষণ শান্তির আশা নেই বললেই চলে।
কেন বাড়ছে দুশ্চিন্তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেরিনরা পৌঁছানো মাত্রই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বড় কো ম্পা নিগুলো।
কী এই এস্কেলেশন ট্র্যাপ?
যখন কোনো শক্তিশালী দেশ প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য ক্রমাগত বোমা হামলা বা শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরও বড় আক্রমণের পথে হাঁটে। এই চক্রটিকেই বলা হয় এস্কেলেশন ট্র্যাপ। ট্রাম্প চাইছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে ও ক্ষমতা পরিবর্তন করতে, কিন্তু পরিস্থিতি বর্তমানে ইরানের অনুকূলে রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মুক্তির একমাত্র পথ
অধ্যাপক পাপে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মহাযুদ্ধ রুখতে হলে ট্রাম্পকে ইজরায়েলের ওপর কড়া সামরিক নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। অন্যথায়, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হবে।