বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট, রেশনিং ও ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ঝুঁকছে একাধিক দেশ

বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট, রেশনিং ও ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ঝুঁকছে একাধিক দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও কাতারের তৈলক্ষেত্রে হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জ্বালানি রেশনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে লোডশেডিংয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি কার্যকর করা হয়েছে।

ভারতে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ জারি না হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি সরকারি দফতর ও সাধারণ নাগরিকদের জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকারখানা সাময়িক বন্ধ রাখা এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলো জ্বালানি মজুতদারি রুখতে কোটা সিস্টেম চালু করেছে। কোথাও সেনার পাহারায় তেল ডিপো রক্ষা করা হচ্ছে, আবার কোথাও সাইকেল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *