কৃত্রিম পায়ের ভেতরে কোটি কোটি টাকার মাদক! বারুইপুর বাইপাসে হাড়হিম করা অভিযানে পুলিশের জালে দুই পাচারকারী

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে ঢাল করে কোটি কোটি টাকার মাদক পাচারের এক অবিশ্বাস্য ছক বানচাল করল বারুইপুর থানার পুলিশ ও এসওজি (SOG) টিম। বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর কৃষ্ণমোহন বাইপাস এলাকায় এই টানটান নাটকীয় অভিযানের পর উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১ কেজি ৮০০ গ্রাম হেরোইন। আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মূল পাণ্ডা মাসুদ আলী এবং তার সহযোগী আমিনুল গাজী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বারুইপুর জেলা পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে বাইপাস দিয়ে একটি বড়সড় মাদকের চালান যাচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই বারুইপুর থানার বিশেষ টিম ও এসওজি-র আধিকারিকরা ওত পেতে ছিলেন। রাত বাড়লে একটি দ্রুত গামী বাইককে আসতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। বাইকটি থামানোর নির্দেশ দিলে ধরা পড়ে আমিনুল ও মাসুদ।
এরপরই শুরু হয় চূড়ান্ত নাটক। বাইকের পেছনে বসে থাকা মাসুদ পুলিশের সামনে নিজের ডান পা হারানো এবং পঙ্গুত্বের দোহাই দিয়ে নিজেকে অত্যন্ত অসহায় প্রমাণ করার চেষ্টা করে। সে বোঝাতে চায় যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কোনোভাবেই অপরাধের সাথে যুক্ত থাকতে পারে না। কিন্তু অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেনি সে। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। দেখা যায়, মাসুদের ব্যবহৃত কৃত্রিম বা নকল পায়ের ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল গোপন কুঠুরি। সেই নকল পায়ের ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসে প্যাকেটে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ হেরোইন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কেউ যাতে সন্দেহ না করে তাই মাসুদের পঙ্গুত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত এই মাদকচক্রটি। আসলে তার এই শারীরিক সীমাবদ্ধতাই ছিল পাচারের প্রধান অস্ত্র বা ‘তুরুপের তাস’। ধৃতরা মূলত ‘ডেলিভারি ম্যান’ হিসেবে কাজ করত বলে জেরায় স্বীকার করেছে। এই বিশাল পরিমাণ মাদক কোথা থেকে আসছিল এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার শিকড় খুঁজতে নেমেছে পুলিশ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের এই সাফল্যকে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধৃত মাসুদ আলী ও আমিনুল গাজীকে আজই আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের হদিস পেতে চাইছে। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।