ময়নাগুড়ির সভায় মমতার হুঙ্কার, কেন চতুর্থবার তৃণমূল সরকার জরুরি?

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে বুধবার ময়নাগুড়ি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ধারা বজায় রাখতে কেন রাজ্যে চতুর্থবার তৃণমূল সরকার গঠন করা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষ আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিনামূল্যে রেশন, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত হারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, বিরোধী দল কেবল ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’ দেয়। নোটবন্দি, এনআরসি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়ে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। তাঁর অভিযোগ, পদবি পরিবর্তনের অজুহাতে বহু মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এনআরসির কারণে অনেক মানুষ হেনস্থার শিকার হয়েছেন। রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজে বিজেপির প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে তিনি গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানান।
বক্তব্যের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেগঘন সুরে জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং কমিশন প্রতিকূলতা তৈরি করলেও তাঁর সঙ্গে আমজনতা রয়েছেন। পেট্রোলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল মানুষের পাশেই থাকবে। বিজেপি রাজ্যটাকে ‘তুলে দিতে চায়’ বলে অভিযোগ তুলে তিনি সাধারণ মানুষকে তৃণমূলের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। সংক্ষেপে, ময়নাগুড়ির এই সভা থেকে উন্নয়নের খতিয়ান ও বিরোধীদের ব্যর্থতা তুলে ধরাই ছিল তৃণমূল নেত্রীর মূল লক্ষ্য।