হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি না কি কিডনির রোগ? মুখ ও পা ফোলা নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

শরীরের হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা মুখ ও হাত-পা ফুলে যাওয়াকে কেবল সাধারণ মেদ বৃদ্ধি ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তন অনেক সময় কিডনির গুরুতর সমস্যার প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। বিশেষ করে দিনের শেষে গোড়ালি ফুলে যাওয়া বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের চারপাশ ফোলা থাকা বৃক্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। কিডনি যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও জল বের করতে ব্যর্থ হয়, তখনই এই ধরনের ‘ফ্লুইড রিটেনশন’ বা ফোলাভাব তৈরি হয়।
আধুনিক জীবনযাপনে অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া ধূমপান, মদ্যপান এবং শরীরচর্চার অভাব এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কিডনি অত্যন্ত সহনশীল অঙ্গ হওয়ায় এর বিকল হওয়ার লক্ষণগুলো অনেক দেরিতে প্রকাশ পায়। তাই প্রস্রাবে ফেনা হওয়া, অকারণে ক্লান্তি বা শরীরে চাপের ফলে গর্ত হয়ে যাওয়া ফোলাভাব দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিডনি সুরক্ষিত রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা আবশ্যক। চিকিৎসকরা কম লবণ ও চিনি খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান এবং নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অপ্রয়োজনীয় ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলা এবং সক্রিয় জীবনযাপন কিডনির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ রোধে সাহায্য করে। শরীরের এই ছোটখাটো সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিলে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে কিডনির বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।