ইরানকে চাপে রাখতে কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

শান্তি আলোচনার আবহেই ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং দেশটির তেল রাজস্বে বড়সড় ধাক্কা দিতে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির মূল পথ, যা এই সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকে আরব বিশ্বে পাঠানোর নির্দেশ অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এই বিশেষ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো দখল ও সুরক্ষায় পারদর্শী। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা উপস্থিত রয়েছে, যা সামরিক বিকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে সরাসরি ইরানের অর্থনীতিতে আঘাত হানা। ট্রাম্প একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতিমধ্যেই মার্কিন বাহিনীর বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ ইরানের তেল পরিকাঠামোকে পঙ্গু করে তেহরানকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।