১৯ মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! আরজি করের অভিশপ্ত সেই জরুরি বিভাগে অবশেষে শুরু মেরামতি

২০২৪ সালের ১৪ অগস্টের সেই বিভীষিকাময় রাত আজও ভোলেনি তিলোত্তমা। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নারী চিকিৎসকের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে যখন উত্তাল ছিল রাজপথ, ঠিক তখনই একদল বহিরাগত হামলা চালায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ভাঙচুর আর ধ্বংসলীলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসার প্রাণকেন্দ্রটি। দীর্ঘ ১৯ মাস অচল হয়ে পড়ে থাকার পর বুধবার অবশেষে সেই জরুরি বিভাগ সংস্কারের কাজে হাত দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কেন এতদিন থমকে ছিল কাজ?
হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা এবং বিভিন্ন এজেন্সির ছাড়পত্রের অপেক্ষায় এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া প্রমাণের স্বার্থে এবং বিতর্কের আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে জঞ্জাল সরানোর কাজ।
কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে?
প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ভাঙচুরের ফলে নষ্ট হওয়া দামি যন্ত্রাংশ ও পরিকাঠামো মেরামতে খরচ হতে পারে প্রায় এক কোটি টাকা। শুধুমাত্র মেশিনগুলো সচল করতেই প্রয়োজন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে জরুরি পরিষেবার কাজ চললেও সেখানে জায়গার অভাব ও পরিকাঠামোগত সমস্যায় গত কয়েকদিনে রোগীর মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে। এই চাপ সামাল দিতেই তড়িঘড়ি মূল ইমার্জেন্সি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কবে খুলবে সাধারণের জন্য?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই আংশিকভাবে চালু হতে পারে এই বিভাগ। প্রথম ধাপে ১০টি জরুরি শয্যা এবং কয়েকটি পর্যবেক্ষণ শয্যা নিয়ে পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার হয়ে গেলেই যন্ত্রপাতির অবস্থা বুঝে চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করবেন সুপার।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আরজি করের জরুরি বিভাগ পুনরায় চালু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে সেই রাতের ক্ষত কাটিয়ে পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রোগী ও তাঁদের পরিবার।