শান্তির আড়ালে কি চরম বিপদে ইরান? ট্রাম্পের ১৫ শর্ত বনাম খামেনেইর ১০ দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

২৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে কি থামতে চলেছে রণদামামা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। তবে দুই পক্ষের সামনে আসা শর্তাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, শান্তির পথ যতটা মসৃণ ভাবা হচ্ছে, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন।
ইরানের ১০টি প্রধান দাবি
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শান্তি চাইলে আমেরিকাকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত মানতে হবে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ভবিষ্যতে আর কখনও হামলা না করার গ্যারান্টি দিতে হবে।
- যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকাকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে।
- ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
- রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানকে স্থায়ী সদস্যপদ এবং ভেটো পাওয়ার দিতে হবে।
আমেরিকার ১৫টি কঠোর শর্ত
পাল্টা চালে আমেরিকাও ইরানকে কোণঠাসা করতে ১৫টি শর্তের লম্বা তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলো হলো—
- ইরানকে অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে।
- পরমাণু কর্মসূচি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামিয়ে দিতে হবে।
- নাতাঞ্জ এবং ফোরদোর মতো প্রধান পরমাণু কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
- হামাসের মতো সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
- হোরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
- ইরানের সামরিক ক্ষমতা শুধুমাত্র আত্মরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি কূটনীতির জয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ইরানকে যে শর্ত দিয়েছে তার সঙ্গে ২০০৩ সালে লিবিয়াকে দেওয়া শর্তের অদ্ভুত মিল রয়েছে। সে সময় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি আমেরিকার শর্ত মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু আট বছর পর তাকে শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। ইরান সম্ভবত সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পাল্টা চাল হিসেবে আমেরিকাকে গ্যারান্টি এবং ঘাঁটি সরানোর শর্তে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি ইরানের এই আকাশচুম্বী দাবি মেনে নেবেন? নাকি শর্তের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা করবে? গোটা বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধের দিকে।