পশ্চিম এশিয়া সংকট: মোদির অনুপস্থিতিতে সর্বদলীয় বৈঠক, সংসদে আলোচনার দাবিতে অনড় বিরোধীরা

ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের আবহে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক করল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুপস্থিতিতে এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সরকারের তরফে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও ভারতের প্রস্তুতি সম্পর্কে দলগুলোকে অবহিত করেন। বৈঠকে জানানো হয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও দেশে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
বৈঠক ঘিরে শুরু থেকেই সরব ছিল বিরোধী শিবির। অধিবেশন চলাকালীন সংসদকে এড়িয়ে কনফারেন্স রুমে আলোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কংগ্রেস এই বৈঠক বয়কট করে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস কড়া সমালোচনা করেছে। যদিও বিজেপি পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা অহেতুক রাজনীতি করছে। তবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার সরকারের ভূমিকাকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে বর্ণনা করেন। বিরোধীদের দাবি, পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে সরকার কেবল লোকচক্ষুর অন্তরালে আলোচনা না করে লোকসভা ও রাজ্যসভার কক্ষে পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক করুক। সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, কূটনৈতিক কৌশলে ভারত ‘নীরব দর্শক’ হয়ে থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে চাপ বজায় রেখেছে বিরোধী দলগুলো।