৫ হাজার কোটি টাকার বাসমতী রফতানি থমকে: যুদ্ধের আঁচে বিপাকে দেশের চাষি ও মিল মালিকরা

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতের বাসমতী চাল রফতানি শিল্প গভীর সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে অস্থিরতা এবং আর্থিক লেনদেন আটকে যাওয়ায় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রফতানি বাণিজ্য থমকে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রদেশের রায়সেনের মতো প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলের মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ওপর। বিশেষ করে রমজান ও ঈদের আগে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ চাল রফতানি হয়, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভারত বছরে যে ৬০ লাখ মেট্রিক টন বাসমতী রফতানি করে, তার অর্ধেকই যায় সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বাজারে। বর্তমানে লজিস্টিকস ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কনটেইনার প্রতি খরচ ২,৫০০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯,০০০ ডলারে। প্রায় ১০ লাখ টন চাল এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বন্দরে আটকে রয়েছে। বীমা কভারেজ কঠোর হওয়া এবং রুট পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অচলাবস্থার ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার পেমেন্ট আটকে যাওয়ায় মিল মালিকদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। বাসমতীর কেনাবেচা কমে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে ধানের দরে ধস নামার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। প্রক্রিয়াজাত চাল গুদামে পড়ে থাকায় মিলের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মীদের মজুরি মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি হস্তক্ষেপের কথা ভাবা হলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ভারতের এই সুগন্ধি চাল রফতানির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।