মরিয়া ইরান কি এবার ট্রাম্পের পায়ে লুটিয়ে পড়বে? গোপনে চলছে সন্ধির খেলা

প্রকাশ্যে আস্ফালন করলেও অন্দরে কি কাঁপছে ইরান? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি অন্তত সেই জল্পনাই উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান সরকার এখন এতটাই কোণঠাসা যে তারা গোপনে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে মরিয়া। কিন্তু প্রাণের ভয়ে সেই সত্য স্বীকার করতে পারছে না তারা।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ও ইরানের প্রাণভয়
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের এক নৈশভোজে ট্রাম্প সরাসরি জানান, ইরান আসলে যুদ্ধ থামাতে একটি চুক্তির জন্য ছটফট করছে। তাঁর কথায়, “ওরা আলোচনা করছে এবং ভীষণভাবে একটা রফা চাইছে। কিন্তু প্রকাশ্যে সেটা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ ওদের ভয়, মুখ খুললেই হয়তো নিজেদের দেশের লোকের হাতেই প্রাণ খোয়াতে হবে।” শুধু তাই নয়, মার্কিন হামলার আতঙ্কেও ইরান সিঁটিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
যুদ্ধের ময়দান বনাম আলোচনার টেবিল
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিয়াভিট সাফ জানিয়েছেন, আলোচনা শুধু চলছেই না, তা যথেষ্ট ফলপ্রসূ। ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট— হয় আত্মসমর্পণ, নয়তো ইরানের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে। আমেরিকার দাবি, ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং সেটা বুঝতে না পারলে আরও ভয়ঙ্কর আঘাত আসবে।
নেপথ্যে কারা? রহস্যময় গতিবিধি
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরানের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। শোনা যাচ্ছে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ গোপনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকের জল্পনাও তুঙ্গে।
চার থেকে ছয় সপ্তাহের লক্ষ্যমাত্রা
উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার ও মেরিন মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। লক্ষ্য ইরানের তেল সম্পদ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। হোয়াইট হাউসের অনুমান, আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই এই সামরিক অভিযান শেষ হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এখন দেখার, তেহরান কি শেষ পর্যন্ত সাদা পতাকা ওড়ায়, নাকি ধ্বংসস্তূপের পথেই এগিয়ে যায়।