ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ কি পুতিনের লটারি? প্রতিদিন রাশিয়ার পকেটে ঢুকছে ৭১ হাজার কোটি টাকা

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ কি পুতিনের লটারি? প্রতিদিন রাশিয়ার পকেটে ঢুকছে ৭১ হাজার কোটি টাকা

ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ যেন রাশিয়ার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যত চড়ছে, ভ্লাদিমির পুতিনের রাজকোষ ততই ফুলেফেঁপে উঠছে। যুদ্ধের বাজারে তেল বিক্রি করে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা আয় করছে মস্কো।

‘দ্য টেলিগ্রাফ ব্রিটেন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আবহে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই রাশিয়া প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করতে চলেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৭৬০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার তেল বাজারজাত করছে দেশটি। আমেরিকার পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়ের মুখ দেখছে ক্রেমলিন।

রাশিয়ার এই অবিশ্বাস্য আয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্ট্র্যাটেজিক কারণ। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ প্রায় থমকে গেছে। ফলে বিশ্ববাজার এখন রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীল। কিয়েভ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, রাশিয়া বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ১০০ ডলারে বিক্রি করছে। পাশাপাশি ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ৭২ শতাংশ বেশি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর্থিক লাভের পাশাপাশি এই যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক। ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর দাবি, রাশিয়া গোপনে ইরানलाई ড্রোন, অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। এমনকি মহাকাশে থাকা রুশ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইসরায়েলি ঘাঁটির নিখুঁত অবস্থান ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা ইরানকে কেবল ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে মানবিক সহায়তা করছে।

যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ তৈরি করেছে, তখন সেই সংকটকে পুঁজি করেই নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তুলছে রাশিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *