ক্যানিং পূর্বে ওলটপালট সমীকরণ: সওকতের গড়ে থাবা বসাতে মরিয়া আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর পটপরিবর্তন ঘটেছে। ক্যানিং পূর্বের দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা সওকাত মোল্লাকে দল ভাঙড় উদ্ধারে পাঠালে, সেই শূন্যস্থানে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বাহারুল ইসলামকে। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন প্রভাবশালী মুখ তথা ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম এখন আইএসএফ-এর ঝাণ্ডা হাতে ক্যানিং পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ওলটপালট সমীকরণে কেন্দ্রটির দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের গড় হিসেবে পরিচিত ক্যানিং পূর্বে এবার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সওকাত মোল্লার পরিবর্তে বাহারুল ইসলামকে প্রার্থী করায় স্থানীয় কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই অন্তর্ঘাত ও সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আরাবুল ইসলাম। ২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের একাধিপত্য থাকলেও, এবার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ও বিরোধী হাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
আইএসএফ-এর ধর্মীয়-সামাজিক মেরুকরণ এবং আরাবুল ইসলামের ব্যক্তিগত জনসংযোগ এই লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছে। উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী থাকলেও, বিরোধীরা এলাকায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে প্রধান হাতিয়ার করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাংগঠনিক শক্তিতে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারলে আরাবুল বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারেন। ফলে ক্যানিং পূর্বের লড়াই এখন সেয়ানে-সেয়ানে রূপ নিয়েছে।⏹