কুয়েতের তৈলক্ষেত্রে সাদ্দাম বাহিনীর অগ্নিসংযোগ, ফিরে দেখা বিংশ শতাব্দীর ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়

কুয়েতের তৈলক্ষেত্রে সাদ্দাম বাহিনীর অগ্নিসংযোগ, ফিরে দেখা বিংশ শতাব্দীর ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়

১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের অন্তিম লগ্নে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পিছু হটার সময় কুয়েতের প্রায় ৭৫০টি তেলকূপে আগুন ধরিয়ে দেয় সাদ্দাম হোসেনের ইরাকি বাহিনী। এই ‘পোড়ামাটি নীতি’র ফলে প্রায় ন’মাস ধরে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মরুভূমি নরকে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল পুড়ে সৃষ্টি হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট।

এই বিপর্যয়ের প্রভাবে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো পৌঁছাত না, যার ফলে এক ধাক্কায় কমে গিয়েছিল আঞ্চলিক তাপমাত্রা। বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত ও পাকিস্তানের আকাশেও পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি সুদূর কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশেও এর প্রভাবে ‘কালো বরফ’ পড়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।

বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’র খবর সেই দুঃসহ স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে। ১৯৯১ সালের সেই ঘটনায় ১ কোটি ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরে মিশে বাস্তুতন্ত্রের যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল, তা আজও চেরনোবিল ও ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার সমতুল্য বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হয়। এই অগ্নিকাণ্ড নেভাতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ ন’মাস মরণপণ লড়াই করতে হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *