জ্বালানি শুল্ক ছাঁটাইয়ে কেন্দ্রের বড় ঘোষণা: মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তির ইঙ্গিত

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় চাপে পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল দেশজুড়ে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং আমজনতাকে স্বস্তি দিতে শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, পেট্রলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বিমান পরিষেবার খরচ বাড়ার আশঙ্কা জাগিয়ে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের ওপর লিটার প্রতি ৫০ টাকা নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকে ছাড় দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে কেন্দ্র।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের তেল এবং ৩০ দিনের রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারত স্থিতিশীল অবস্থানে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী পূর্ববর্তী এক ভাষণে করোনাকালের মতো সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে আদতে কতটা স্বস্তি আসবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।