বিবাহিত পুরুষের লিভ-ইন অপরাধ নয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় ঐতিহাসিক রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের

এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, একজন বিবাহিত পুরুষ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে তা আইনত অপরাধ নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামাজিক নৈতিকতা কখনোই নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, যদি আইনে কোনো কাজ নিষিদ্ধ না হয়, তবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে আদালত কাউকে সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করতে পারে না।
শাহজাহানপুরের এক দম্পতির আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ওই মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘অনার কিলিং’-এর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হাইকোর্ট জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক দুজন মানুষের একসঙ্গে থাকার অধিকার রক্ষা করা পুলিশের আইনি কর্তব্য।
এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ জারি করেছে এবং শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপারকে ওই দম্পতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যক্তিগত দায়িত্ব দিয়েছে। একইসঙ্গে মহিলার পরিবারকে ওই দম্পতির ক্ষতি করা বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আবেদনকারীদের আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও আদালত অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি প্রদান করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৮ এপ্রিল।