স্কুলে হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে তোপ ইরানের

স্কুলে হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে তোপ ইরানের

দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলল ইরান। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভাষণে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, ‘শাজারেহ তয়্যিবেহ’ নামক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। তাঁর মতে, অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির যুগে ১৭৫ জনেরও বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষকের মৃত্যু কোনোভাবেই ‘ভুল’ বা ‘দুর্ঘটনা’ হতে পারে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনের আলোয় স্কুলটি যখন পড়ুয়ায় ঠাসা ছিল, তখনই সেখানে আঘাত হানে একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে গণকবরের ছবি শেয়ার করে একে ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে যে, লক্ষ্য নির্ধারণে ত্রুটির কারণে ভুলবশত মিসাইলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলে আঘাত হেনেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ইরান এই সাফাই প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এমন ভুল আসাম্ভব। এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *