‘ধুরন্ধর’-এর হাজার কোটির সাফল্য, বলিউডের পুনর্জাগরণ না কি সাময়িক চমক?

পোস্ট-প্যান্ডেমিক ধাক্কা সামলে বলিউড যখন অস্তিত্ব সংকটে, ঠিক তখনই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ‘ধুরন্ধর ২’ বিশ্বজুড়ে ১,০০৭.৭৫ কোটির ব্যবসা করে নজির গড়েছে। পরিচালক আদিত্য ধরের এই সৃষ্টিতে আধুনিক মার্কেটিং ও প্যান-ইন্ডিয়া ব্র্যান্ডিংয়ের এক অদ্ভুত মিশেল দেখা গেছে। রাম গোপাল বর্মার মতো নির্মাতারা একে নির্মাণশৈলীর নতুন মানদণ্ড হিসেবে অভিহিত করলেও, শিল্পের ভঙ্গুর কাঠামো নিয়ে সংশয় কাটেনি।
প্রদর্শক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শক এখন কেবল বড় পর্দার অভিজ্ঞতা বা ‘ইভেন্ট ফিল্ম’-এর জন্যই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন। ‘ধুরন্ধর’ সেই চাহিদাকে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে, যা একসময় ‘ধুম’ বা ‘সিংহম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি করেছিল। তবে এই অতি-সাফল্য মাঝারি বাজেটের গল্পনির্ভর সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওটিটি-র যুগে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ধরে রাখার লড়াই এখন কেবল বিশাল বাজেটের ভিএফএক্স ও অ্যাকশনধর্মী ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, একটি ব্লকবাস্টার কখনোই দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। ‘ধুরন্ধর’-এর জয়জয়কার বলিউডের পেশিশক্তি প্রদর্শন করলেও, এটি সামগ্রিক শিল্পের স্থিতিশীলতার প্রতীক কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বড় বাজি আর বড় ঝুঁকির এই যুগে কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর নির্ভরতা বলিউডের জন্য টেকসই সমাধান না-ও হতে পারে। তাই এই সাফল্যকে বিপ্লব না বলে আপাতত এক বিরল বিস্ময় হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।