কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রান্নার গ্যাসের টান: মুখ্যমন্ত্রীর নতুন দাবিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন এবং রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে শোরগোল পড়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভিনরাজ্য থেকে আসা বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভোট কর্মীদের প্রয়োজনে রাজ্যের নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাসে টান পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তিনি রেশনে কেরোসিনের বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন এবং রাজ্যের গ্যাস বাইরে না পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে বিজেপি। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের জোগানের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জনমানসে আতঙ্ক তৈরি করতেই এই ‘গ্যাস-রাজনীতি’র অবতারণা করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনিক তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটের মেরুকরণ করাই এখানে মূল লক্ষ্য।
প্রযুক্তিগতভাবে রান্নার গ্যাসের বণ্টন কেন্দ্রীয় তালিকার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি জাতীয় গ্রিড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহিনীর জন্য নিজস্ব লজিস্টিক সাপোর্ট থাকে, যা সাধারণ গ্রাহকদের কোটায় প্রভাব ফেলে না। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী ও অবাস্তব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে গ্যাসের অভাবের দায় আগাম কেন্দ্রের ওপর চাপানোর এই কৌশল নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।