ইরান-আমেরিকা সংঘাত থামাতে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা: ইসলামাবাদে বসছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। এই সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ইরানের কাছে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে রবি ও সোমবার ইসলামাবাদে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের বিদেশমন্ত্রীরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাই এই সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক সর্বদলীয় বৈঠকে জানিয়েছেন, ভারত পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারত নিজেকে পাকিস্তানের মতো কোনো ‘মধ্যস্থতাকারী’ দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে ইচ্ছুক নয়। বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার আশঙ্কার মাঝেই ইসলামাবাদের এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে।