সব অন্ধকার ঘুচিয়ে রাজকীয় বেশে ঘরে ফিরল একরত্তি নাফিসা
পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ঝিলু গ্রামে এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। যেখানে আজও কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে অনেক পরিবারে বিষাদের ছায়া নামে, সেখানে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান লাভের আনন্দে আত্মহারা হয়ে তাকে এক রাজকীয় কায়দায় বরণ করে ঘরে তুললেন এক গর্বিত পিতা। পেশায় ব্যবসায়ী শেখ নাজির উদ্দিন তাঁর সদ্যোজাত কন্যা ও স্ত্রীকে রবিবার হাসপাতাল থেকে ফুলমালায় সুসজ্জিত এক গাড়িতে চাপিয়ে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে মহাসমারোহে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পনপ্রথা ও লিঙ্গবৈষম্যের এই যুগে দাঁড়িয়ে এক বাবার এমন বিরল কন্যাসিন্নেহ দেখে আপ্লুত গোটা গ্রাম। জানা গিয়েছে, নাজির উদ্দিনের নিজের কোনও বোন নেই। তিন ভাইয়ের সংসারে কোনও মেয়ে না থাকায় দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ ছিল তাঁদের মনে। নাজির উদ্দিনের প্রথম সন্তানও ছিল কন্যা, তবে দ্বিতীয়বারও তিনি মনে মনে কন্যাসন্তানই চেয়েছিলেন। চারদিন আগে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর স্ত্রী বাবলি খাতুন দ্বিতীয় কন্যার জন্ম দিলে খুশির জোয়ার বয়ে যায় পরিবারে।
নবজাতিকার নাম রাখা হয়েছে নাফিসা পারভিন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে গাড়িটিকে কনের মতো সাজিয়ে এক উৎসবের মেজাজ তৈরি করেন নাজির। বড় মেয়ে এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেই সুসজ্জিত গাড়িতে করেই ঘরে ফেরে একরত্তি নাফিসা। বাড়িতে পৌঁছানোর পর নাতনিকে পরম আদরে বরণ করে নেন দাদু নাজিম উদ্দিন শেখ। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে জানান, নিজের মেয়ে না থাকার আক্ষেপ আজ নাতনিদের পেয়ে মিটেছে। আধুনিক সমাজে কন্যাসন্তানকে সত্যিকারের ‘লক্ষ্মী’ হিসেবে বরণ করে নেওয়ার এই ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়োচ্ছে।