আইএএস অফিসার হওয়া যতটা কঠিন পদত্যাগ করা কি তার চেয়েও বেশি দুর্লভ, জানুন আসল নিয়ম

আইএএস অফিসার হওয়া যতটা কঠিন পদত্যাগ করা কি তার চেয়েও বেশি দুর্লভ, জানুন আসল নিয়ম

ভারতের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইএএস পদের সম্মান যেমন আকাশচুম্বী, এই চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়াও তেমনই জটিল। একজন আইএএস অফিসার চাইলেই পদত্যাগ করতে পারেন না; এর জন্য তাকে দীর্ঘ প্রশাসনিক তদন্ত ও অনুমোদনের স্তর পার করতে হয়। ১৯৫৮ সালের ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস রুলস’ অনুযায়ী, রাজ্য ক্যাডারের অফিসারকে মুখ্য সচিবের কাছে এবং কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে থাকা অফিসারকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিতে হয়। এরপর রাজ্য ও কেন্দ্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় দুর্নীতির অভিযোগ বা বন্ডের শর্ত পূরণ না হলে সরকার এই ইস্তফা আটকে দিতে পারে।

২০১২ ব্যাচের আইএএস অফিসার কান্নান গোপীনাথনের ঘটনাটি এই জটিলতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ২০১৯ সালে পদত্যাগ করলেও দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তার ইস্তফা ঝুলে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ইস্তফা গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত একজন আমলা সরকারি কর্মচারী হিসেবেই গণ্য হন এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বা নির্বাচনে লড়তে পারেন না। ২০১৪ সালের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক। কান্নান গোপীনাথনের ক্ষেত্রেও ইস্তফা মঞ্জুর না হওয়ায় তার সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের পথে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে, যা এই পেশার কঠোর নিয়মের দিকটিই তুলে ধরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *