ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গোপন অস্ত্র কুর্দি নারী বাহিনী! পাহাড়ের গুহায় চলছে ভয়ঙ্কর প্রস্তুতি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের গোপন অস্ত্র কুর্দি নারী বাহিনী! পাহাড়ের গুহায় চলছে ভয়ঙ্কর প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক : ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরাকের দুর্গম পাহাড় আর গভীর গুহায় লুকিয়ে এক বিশেষ নারী বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরা কুর্দি কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি বা ‘পিজেএকে’ (PJAK)-এর সদস্য। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক নারী চিত্রগ্রাহক অত্যন্ত গোপনে এই বাহিনীর ডেরায় পৌঁছে গিয়েছিলেন, যা এই নারী যোদ্ধাদের জীবনের এক অন্য লড়াইয়ের গল্প সামনে এনেছে।

গুহায় বাস আর ড্রোন প্রশিক্ষণ উত্তর ইরাকের দুর্গম পাহাড়ে এই প্রমিলা বাহিনীর ডেরা। সেখানে গভীর গুহা এবং মাটির তলায় তৈরি করা হয়েছে গোপন সুড়ঙ্গ। সেখানে মজুদ রয়েছে খাবার, টাকা এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। মার্কিন বা ইজরায়েলি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে তারা এই গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। শুধু শরীরচর্চা বা বন্দুক চালনা নয়, এই নারী যোদ্ধারা এখন অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্নাইপার শ্যুটিংয়ের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

সংসার ফেলে যুদ্ধের ময়দানে এই বাহিনীর ২১ বছর বয়সী যোদ্ধা আরিয়ান জানান, কুর্দিদের ওপর বছরের পর বছর চলা নির্যাতন তাদের অস্ত্র ধরতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সী গালাভিজ আওরিন গত ২০ বছর ধরে নিজের পরিবারকে দেখেননি। তিনি উর্মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে এই গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। এদের লক্ষ্য একটাই—ইরানে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দি জাতির মুক্তি।

কেন এই বিদ্রোহ? ২০২২ সালে হিজাব বিরোধী আন্দোলনে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানের অন্দরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’—এই স্লোগানকে পাথেয় করেই অনেক স্কুলপড়ুয়া কিশোরীও এখন এই গেরিলা শিবিরে নাম লেখাচ্ছে। ১৮ বছর বয়সী বিগান যেমন তার স্কুলে হিজাব পরতে অস্বীকার করার পর গ্রাম ছেড়ে পাহাড়ে চলে এসেছেন। তার মতে, “নারীদের কাছে পথ খুব সীমিত; হয় ঘরে অত্যাচার সহ্য করো, নয়তো বিপ্লবের পথে নিজেকে বাঁচাও।”

আমেরিকার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দিদের সরাসরি সমর্থন দিলেও, এই যোদ্ধারা কোনো দেশের হাতের পুতুল হতে নারাজ। কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সাফ কথা, তারা কারো ‘পদাতিক বাহিনী’ হবে না। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা ইরানের ভেতরে থাকা তাদের গোপন যোদ্ধাদের সক্রিয় করে তুলবে। যদিও একটি বড় ভয় কাজ করছে—গৃহযুদ্ধ। যোদ্ধাদের আশঙ্কা, এই লড়াই যেন ইরানের সাধারণ মানুষকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে না দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *