নিখুঁত হওয়ার থেকেও কার্যকর হওয়া জরুরি, কেকেআরের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে বোঝালেন ‘লর্ড’ শার্দূল

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রচলিত কোনো ছাঁচে তাঁকে ফেলা যায় না। নেই গতির ঝড় কিংবা বিষাক্ত সুইং, তবুও উইকেট তোলার এক অদ্ভুত জাদুকরী ক্ষমতা আছে শার্দূল ঠাকুরের। আর সেই কারণেই ক্রিকেট বিশ্ব তাঁকে ভালোবেসে ডাকে ‘লর্ড’ নামে। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে নিজের পুরনো চেনা মেজাজেই ধরা দিলেন তিনি।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কলকাতার বিরুদ্ধে ম্যাচের মোড় একাই ঘুরিয়ে দিলেন শার্দূল। তুলে নিলেন ফিন অ্যালেন, অজিঙ্ক রাহানে এবং ক্যামেরন গ্রিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কেকেআর-এর বড় রানের স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ছিনিয়ে নিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার। লখনউ থেকে মুম্বইয়ে ফিরে এসে তিনি যেন এখন দলের বোলিং বিভাগের প্রধান অস্ত্র।
ম্যাচ শেষে নিজের ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শার্দূল বলেন, “নিজের শহরে সমর্থকদের ভালোবাসা পেয়ে আমি অভিভূত। সরাসরি প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়াটা আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।” কীভাবে সীমিত ক্ষমতা নিয়েও নিয়মিত সাফল্য পান? এক সাক্ষাৎকারে শার্দূল জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু বল করেন এবং পিচে পড়ার পর কী হবে তা নিয়ে বেশি ভাবেন না। এই সহজ মানসিকতাই তাঁর আসল শক্তি।
শার্দূলের এই পারফরম্যান্সের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনদের মতে, যখনই ম্যাচ হাতছাড়া হতে বসে, তখনই রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হন লর্ড ঠাকুর। বুমরাহর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে শার্দূলের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা মুম্বইয়ের বোলিং বিভাগকে এক অনন্য ভারসাম্য এনে দিয়েছে। দিনশেষে আরও একবার প্রমাণিত হল, ক্রিকেটে সব সময় নিখুঁত ব্যাকরণ মেনে চলার চেয়ে কাজের কাজ করে দেওয়াই আসল সাফল্য।