টিকিট না পেয়ে রণক্ষেত্র কংগ্রেস দফতর! ভাঙচুর আর তালা ঝোলানোর হুলস্থূল কাণ্ড

নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৮৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। কিন্তু তালিকা সামনে আসতেই খুশির বদলে দিকে দিকে আছড়ে পড়ল ক্ষোভের আগুন। প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম অসন্তোষের জেরে খাস জেলা কার্যালয়েই চলল ব্যাপক ভাঙচুর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গেটের পুরনো তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিলেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরাই।
টাকার বিনিময়ে প্রার্থী করার অভিযোগ
পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের অন্দরে এখন বিদ্রোহের সুর। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, মন্তেশ্বর বা বর্ধমান দক্ষিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে যাঁদের টিকিট দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরদূরান্তের সম্পর্ক নেই। অভিযোগের আঙুল উঠেছে জেলা নেতৃত্বের দিকে। কর্মীদের একাংশের সাফ দাবি, টাকার বিনিময়ে তৃণমূল বা বিজেপি ঘনিষ্ঠদের প্রার্থী করা হয়েছে। যোগ্য নেতাদের ব্রাত্য রেখে ‘বহিরাগত’দের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দলীয় কার্যালয়। অবিলম্বে প্রার্থী বদল না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
ফালাকাটাতেও ‘বহিরাগত’ কাঁটা
বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে উত্তরবঙ্গেও। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় কোচবিহারের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রার্থী করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘরের ছেলেকে বাদ দিয়ে কেন বাইরে থেকে প্রার্থী ধার করতে হলো? এই নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে হাতাহাতি এবং চেয়ার ভাঙচুর পর্যন্ত গড়িয়েছে পরিস্থিতি। বিক্ষুব্ধদের স্পষ্ট বার্তা, বহিরাগত প্রার্থীকে কোনোভাবেই প্রচারে নামতে দেওয়া হবে না।
কী বলছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি
রাজ্যজুড়ে এই বিশৃঙ্খলার মাঝে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর মতে, যে দলের জনভিত্তি বা চাহিদা বেশি, সেখানে প্রার্থী পদ নিয়ে এমন টানাটানি বা ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত সকলকে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। যদিও নিচুতলার কর্মীদের এই রুদ্রমূর্তি সামাল দেওয়া এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বিধান ভবন তথা জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে।