ইরানের খারগ দ্বীপ দখলে ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর ছক! পারস্য উপসাগরে কি তবে মহাযুদ্ধের দামামা

পারস্য উপসাগরের প্রাণকেন্দ্র এবং ইরানের তেল রপ্তানির মূল আধার খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নৌ-সেনা ও তুখোড় প্যারাট্রুপারদের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল বাহিনী এখন এই দ্বীপ দখলের অপেক্ষায়। তবে ইরানও ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয়; আকাশছোঁয়া মিসাইল ব্যাটারি আর ড্রোন বাহিনী নিয়ে ‘আগুনের বৃষ্টি’ ঝরানোর হুমকি দিয়েছেন ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
কেন এই দ্বীপ দখলের লড়াই?
ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এই ২০ বর্গ কিলোমিটারের ছোট দ্বীপটি থেকে। এটি দখল করতে পারলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করতেই এই চরম পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।
রণকৌশল ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
তাত্ত্বিকভাবে মার্কিন প্যারাট্রুপাররা রাতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দ্বীপটি দখল করতে পারলেও, মূল চ্যালেঞ্জ হলো সেটি ধরে রাখা। ইরানি মূল ভূখণ্ড থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণ এবং হরমুজ প্রণালির ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে ব্যাপক। ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের মতো পরিস্থিতি এখানেও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধের আড়ালে কি দরকষাকষি?
একদিকে রণসজ্জা, অন্যদিকে ট্রাম্পের মুখে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার’ সুর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক অভিযানের এই হুমকি আসলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করার একটি বিশাল ধোঁকাবাজিও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনা চুক্তিতে রূপ নেয় নাকি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।