বিরাট সংকটে কংগ্রেস! কেরলে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে কেন হিমশিম খাচ্ছেন রাহুল-খাড়গেরা?

বিরাট সংকটে কংগ্রেস! কেরলে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে কেন হিমশিম খাচ্ছেন রাহুল-খাড়গেরা?

কেরলে ক্ষমতায় ফেরার বড় সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েও গভীর উদ্বেগে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। দলের অন্দরের প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর পিনারাই বিজয়নের লড়াকু ভাবমূর্তি রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে বড় দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পাঞ্জাবের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে আপাতত ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ ঘোষণা করা থেকে শতহস্ত দূরে থাকছে হাত শিবির।

আসলে কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদারের সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রমেশ চেন্নিতালা থেকে শুরু করে বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভি.ডি. সতীশন—প্রত্যেকেই নিজের নিজের জায়গায় শক্তিশালী। এদিকে রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কে.সি. বেণুগোপালের নাম নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের এক ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, বেণুগোপালই হয়তো তুরুপের তাস হতে পারেন। অন্যদিকে শশী থারুরের মতো জনপ্রিয় নাম থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে দৌড়ে পিছিয়ে দিয়েছে। কে. সুধাকরণ বা কে. মুরালিধরনের মতো নেতারাও এই পদের অন্যতম দাবিদার।

কংগ্রেস নেতৃত্বের ভয় হলো, ভোটের আগেই যদি কারও নাম ঘোষণা করা হয়, তবে বিদ্রোহ সামলানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুনে জয়ের সম্ভাবনা ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই এখন বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলছে ইউডিএফ। এখন দেখার বিষয়, কেরলের এই রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে রাহুল গান্ধী শেষ পর্যন্ত দলের সবাইকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে পারেন কি না। নাকি কর্ণাটকের মতো এখানেও দানা বাঁধবে নতুন কোনও অন্তর্কন্দল? কেরলের মসনদ দখলের লড়াইয়ে কংগ্রেসের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *