হরমুজ ভুলে এখন যুদ্ধ ছেড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প! বিস্ফোরক দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের

নিউজ ডেস্ক: ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীকে অন্ধকারে রেখেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃত করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। সোমবারই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে তেহরান যদি হরমুজে জাহাজ চলাচল করতে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তৈল ভাণ্ডার ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘনিষ্ঠ মহলে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ট্রাম্প ভেবেছিলেন চার সপ্তাহের মধ্যে ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে ফেলবেন, কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। উলটে ‘আহত বাঘের’ মতো ইরান পালটা আঘাত হানছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়াই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ থাকা নিয়ে ট্রাম্পের তেমন কোনো আপত্তি নেই বলেই জানা যাচ্ছে। প্রয়োজনে হরমুজ মুক্ত করার দায়িত্ব তিনি ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘বন্ধু’ দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে পারেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ভারত, চিন ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি দেশ বাদে বাকি বিশ্বের জন্য এই পথ বন্ধ করে রেখেছে ইরান, যার ফলে বিশ্ববাজারে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই জটিল সমীকরণ থেকে আপাতত নিজেকে সরিয়ে নিতেই কি তবে ট্রাম্পের এই কৌশলগত পিছু হটা? প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।