ভোটের মুখে বলাগড়ে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল, অঞ্চল সভাপতির ইস্তফায় তোলপাড়

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে হুগলির বলাগড়ে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। জিরাট অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে হঠাৎই ইস্তফা দিলেন দেবাশিস সরকার। জেলা সভাপতি অরিন্দম গুইনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি যেভাবে সরে দাঁড়ালেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে ‘ডাল মে কুছ কালা’র গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই।
দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী এবং জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য দেবাশিসকে নিয়ে একসময় প্রধান হওয়ার গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই পদ পাননি তিনি। মাত্র মাসখানেক আগে তাঁকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলেও হঠাৎ কী এমন ঘটল যে ভোটের মুখে তাঁকে সরে যেতে হলো? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
নিজের চিঠিতে দেবাশিস সরকার ‘ব্যক্তিগত কারণে’ সময় দিতে না পারার অজুহাত দিলেও দলের অন্দরে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সঞ্জয় রায় এই ঘটনায় স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ। তাঁর মতে, কোনো সমস্যা থাকলে তা দলের ভেতরে আলোচনা করা যেত, কিন্তু এভাবে সমাজমাধ্যমে খবর প্রকাশ পাওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে নেতৃত্ব।
বলাগড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে কেন্দ্র করে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, এবারের প্রার্থী রঞ্জন ধারাকে নিয়ে তা ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই পদত্যাগ কি নিছকই ব্যক্তিগত, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলের ইঙ্গিত, সেটাই এখন দেখার বিষয়।