ইরান যুদ্ধের বিশাল খরচ কি তবে আরব দেশগুলোকেই মেটাতে হবে? হোয়াইট হাউসের চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত

ইরান যুদ্ধের বিশাল খরচ কি তবে আরব দেশগুলোকেই মেটাতে হবে? হোয়াইট হাউসের চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত

ওয়াশিংটন, ৩১ মার্চ

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে আরব দেশগুলোর আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

লেভিট জানান, এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব না হলেও এটি প্রেসিডেন্টের বিশেষ ভাবনায় রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প নিজেই এই বিষয়ে মুখ খুলতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পেন্টাগন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই ট্রাম্প প্রশাসন ১১.৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করে ফেলেছে। সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত নেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহে পেন্টাগনের আনুমানিক ব্যয় ১.৪ বিলিয়ন থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছেন সাবেক বাজেট কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার।

ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া এবং পেন্টাগনের অস্ত্রের মজুদ নতুন করে গড়ে তোলার জন্য হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সামরিক বাজেট চেয়েছে। লেভিট মনে করেন, বর্তমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে দুর্বল করা আমেরিকার জন্য লাভজনক হবে।

প্রসংগত, উপসাগরীয় যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেভিট বলেন, সেই সময় জাতিসংঘ ও বিশ্বের অনেক দেশ আমেরিকার পাশে ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েল কার্যত একাই লড়াই করছে। আগের মতো আন্তর্জাতিক সমর্থন বা আঞ্চলিক সহযোগিতা এখন তাদের পাশে নেই বললেই চলে। সেই কারণেই যুদ্ধের খরচের বোঝা আরব দেশগুলোর ওপর চাপানোর এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *