মণিপুরে এবার খুশির হাওয়া! পাকাপাকিভাবে ঘরে ফিরছেন ৪০ হাজার মানুষ

মণিপুরের কাকচিং জেলা থেকে এল স্বস্তির খবর। মঙ্গলবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৯টি ত্রাণ শিবির। সরকারি উদ্যোগে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ এবার ফিরছেন নিজেদের স্থায়ী ঠিকানায়। এটি কেবল একটি জেলার সাফল্য নয়, বরং গোটা রাজ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে সরকারের এক বিশাল পদক্ষেপ।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বড় সাফল্য
প্রাথমিকভাবে জেলার ১১টি ত্রাণ শিবির বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৭৫০ জন মানুষ আশ্রিত ছিলেন। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নিজের ভিটেয় ফিরলেও প্রায় ২০০ জন এখনও স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। কাকচিংয়ের নোডাল অফিসারের মতে, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত মানুষকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও প্রশাসন দ্রুত কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর।
সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রগতি
বিষ্ণুপুরের পর এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম পুনর্বাসন অভিযান। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে পুনরায় স্বনির্ভর করা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২,২০০ পরিবারের পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঘরবাড়ি নতুন করে তৈরির জন্য ‘বিশেষ PMAY-G’ প্রকল্পের অধীনে ৭,০০০ বাড়ি তৈরির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে।
গ্রেপ্তার ৩ চরমপন্থী
শান্তি প্রক্রিয়ার মাঝেই কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার থৌবল ও কাকচিং জেলা থেকে তোলাবাজির অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন PLA এবং KCP (PWG)-র তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃতদের মধ্যে একজন সর্জেণ্ট মেজর পদমর্যাদার চরমপন্থীও রয়েছে। এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।