মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারালেন ভারতীয়রা কোঝিকোড় বিমানবন্দরে ফিরল ২০ জনের নিথর দেহ

নিউজ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ এখন আরও ভয়ঙ্কর মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে এসে সেই অশান্তির আঁচ আছড়ে পড়ল ভারতীয়দের ঘরেও। মঙ্গলবার গভীর রাতে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ বিমানে ২০ জন ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ কেরালায় এসে পৌঁছায়। কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তখন শোকাতুর পরিবেশ।
যুদ্ধের বলি সাধারণ মানুষ
কুয়েতে কর্মরত এই ভারতীয়রা যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের নিথর দেহ এখন গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই ২০ জনের কথা জানালেও, বিদেশ মন্ত্রক সরকারিভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লক্ষ যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সহ একাধিক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তা এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধবিরতির কথা বলছেন, অন্যদিকে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনা। আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত থাকলেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বাগদাদে এক মার্কিন সাংবাদিক অপহরণের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের পকেটে টান
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের বাজারে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে মহার্ঘ হয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার। দিল্লিতে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৯৫.৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৭৮.৫০ টাকায়। তবে রান্নার গ্যাসের দামে এই মুহূর্তে পরিবর্তন আনা হয়নি। আন্তর্জাতিক স্তরে তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি। শান্তির পথ এখনও অনিশ্চিত, বরং বোমা আর মুদ্রাস্ফীতির জোড়া ফলায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষ।