মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা লারা দত্তর জীবন যুদ্ধের রোমহর্ষক কাহিনি

বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্ত তাঁর দুই দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির শুটিং চলাকালীন তিনি যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা আজও তাঁর মনে শিহরণ জাগায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, সেদিন কেবল ভাগ্যের জোরে এবং সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমারের তৎপরতায় তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার এক সমুদ্র সৈকতে ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিং চলছিল। লারা তখন সাঁতার জানতেন না। আচমকাই সমুদ্রের একটি বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে লারা ও অক্ষয় কুমারের ওপর। ঢেউয়ের প্রবল টানে লারা গভীর জলের দিকে ভেসে যেতে শুরু করেন। অভিনেত্রী বলেন, “আমি ভারী চামড়ার পোশাক পরেছিলাম এবং সাঁতার জানতাম না। ফলে পাথরের মতো জলের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছিলাম।”
বিপজ্জনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করে মুহূর্তের মধ্যে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন অক্ষয় কুমার। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লারাকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনেন। এই দুর্ঘটনার পর লারা দত্ত তীব্র হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তৎক্ষণাৎ শুটিং বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এই ঘটনা লারার মনে জল ও সমুদ্র নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল।
বছক কয়েক পর ২০০৯ সালে যখন অক্ষয় কুমার তাঁকে ‘ব্লু’ ছবির জন্য প্রস্তাব দেন, তখন লারা প্রথমে দ্বিধাবোধ করেছিলেন। সমুদ্রের তলায় অ্যাকশন দৃশ্যের কথা শুনে তাঁর সেই পুরনো ভয় আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে অক্ষয় তাঁকে পিছিয়ে না গিয়ে ভয়কে জয় করার পরামর্শ দেন এবং সাঁতার শেখার জন্য উৎসাহিত করেন। অক্ষয়ের সোজাসাপ্টা কথা ছিল— ভীতি দূর করতে হলে সাঁতার শিখে নিতে হবে।
অক্ষয়ের সেই পরামর্শকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন লারা। ৩০ বছর বয়সে এসে তিনি নতুন করে সাঁতার এবং ডাইভিং শেখেন। নিজের মানসিক জড়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ‘ব্লু’ ছবিতে অভিনয় করেন। সেই ছবির শুটিংও ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ মাঝ সমুদ্রে হাঙরের উপস্থিতিতে তাঁদের দৃশ্য ধারণ করতে হয়েছিল।
বক্স অফিসে ‘ব্লু’ ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও লারা দত্তর কাছে এই অভিজ্ঞতা ছিল এক ব্যক্তিগত বিজয়ের শামিল। এক সময় যে সমুদ্রের জল তাঁকে মৃত্যুর দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিল, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই ভয়কেই তিনি শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। লারার এই জীবনকাহিনি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইচ্ছা এবং সাহস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।