মোদী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম নিয়ন্ত্রণে স্বস্তি পাবেন সাধারণ যাত্রীরা

মোদী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম নিয়ন্ত্রণে স্বস্তি পাবেন সাধারণ যাত্রীরা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের আকাশছোঁয়া দামের আবহে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের পকেটের কথা মাথায় রেখে বড় ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বিমান চলাচলের খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক বাজারের নিরিখে দেশে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণের বেশি হওয়ার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ রুটের ‘শিডিউলড’ বিমানের জন্য দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। দিল্লিতে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম যেখানে ২.০৭ লক্ষ টাকা হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেখানে তা ১.০৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ সুবিধা শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ পরিষেবার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে; আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং বেসরকারি চার্টার্ড বিমানের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।

অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু এই পদক্ষেপকে ‘দূরদর্শী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীদের ওপর আকাশছোঁয়া ভাড়ার বোঝা চাপবে না এবং দেশের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রটি স্থিতিশীল থাকবে। বিশেষ করে বাণিজ্যের খাতিরে কার্গো চলাচলেও এই ছাড় বিশেষ সুবিধা প্রদান করবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মাঝে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৯.৪০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১৯৫.১৯ ডলারে পৌঁছেছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ভারত নিজের পর্যাপ্ত উৎপাদনের কারণে সেই ধাক্কা সামলাতে সক্ষম হয়েছে। জোগান স্থিতিশীল থাকায় সরকার অভ্যন্তরীণ রুটে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার এই ঝুঁকি নিতে পেরেছে।

জ্বালানির মূল দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং আকাসা এয়ারের মতো সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই টিকিটে সামান্য ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এই সারচার্জ ২০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে, তবে তা আন্তর্জাতিক লং-হল ফ্লাইটের তুলনায় অনেক কম। এয়ার ইন্ডিয়ার এমডি ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন, জ্বালানির এই বিশ্বব্যাপী ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘমেয়াদে চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

তেল বিপণন সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এখন জেট ফুয়েলের দামও সীমিত রাখায় তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেলে ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *