ভোটের মুখে উপচে পড়া কোষাগার, জিএসটি সংগ্রহে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে স্বস্তিতে মোদী সরকার

ভোটের মুখে উপচে পড়া কোষাগার, জিএসটি সংগ্রহে সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে স্বস্তিতে মোদী সরকার

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় স্বস্তি পেল কেন্দ্র। সদ্য সমাপ্ত অর্থবর্ষে জিএসটি বা পণ্য ও পরিষেবা কর বাবদ কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব জমা পড়েছে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র মার্চ মাসেই জিএসটি বাবদ আয় হয়েছে ২ লক্ষ কোটি টাকা। যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৮ শতাংশ এবং গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৮.২ শতাংশ বেশি। আমদান ও রপ্তানি শুল্কের ক্ষেত্র থেকেও আয়ের হার যথেষ্ট ইতিবাচক বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে আরব দুনিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় সরকারি কোষাগারে বিপুল অর্থের জোগান সরকারকে অভ্যন্তরীণ বাজার ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি শক্তি দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরুতেই এই বিপুল আয় কেন্দ্রের নীতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই রাজস্ব বৃদ্ধি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যগুলি জিএসটি বাবদ তাদের প্রাপ্য বকেয়া হাতে পেয়ে যাবে। এর ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য সরকারগুলির হাতেও পর্যাপ্ত তহবিল থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যগুলি যথাসময়ে পাওনা বুঝে পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আর্থিক বঞ্চনার যে অভিযোগ প্রায়শই বিরোধীরা তোলে, তা অনেকটাই স্তিমিত হবে এবং নির্বাচনী প্রচারে এটি বিজেপির জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে।

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত বছরের জুন মাসে জিএসটি ব্যবস্থায় আনা আমূল সংস্কারই এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জীবনদায়ী ওষুধের ওপর করের হার কমানোর ফলে বাজারে চাহিদাও ক্রয়ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসটি কাউন্সিলের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কেনাবেচা বাড়ায় পরোক্ষভাবে রাজস্বের পরিমাণ প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই বিপুল সংগৃহীত অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ঘাটতি পূরণ করে নতুন বছরের উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *