কারগিল যোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, তুঙ্গে বিতর্ক

কারগিল যোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’, তুঙ্গে বিতর্ক

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা আজাদ আলির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘কোরপস্ অফ ইলেকট্রনিক অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স’-এ যোগ দিয়ে টানা ৩০ বছর দেশসেবা করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ (অপারেশন বিজয়), ২০০১ সালের অপারেশন পরাক্রম এবং সাম্প্রতিক সময়ের অপারেশন সিঁদুরে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এই সুবেদারের নামই এবার ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত অক্টোবরে অবসর গ্রহণের পর নাগরিক অধিকার নিয়ে এহেন টানাপোড়েনে রীতিমতো হতবাক এই প্রবীণ সৈনিক।

আজাদ আলির অভিযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় এনআরসি বা এজাতীয় নথিপত্র পরীক্ষার গুরুত্ব থাকলেও যারা বছরের পর বছর সীমান্তে অতন্দ্র পাহারা দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া। গত ১৫ নভেম্বর নির্দিষ্ট বুথ লেভেল আধিকারিকের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরেও এই বিভ্রান্তি কেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। আজাদ আলির মতে, জম্মু-কাশ্মীর ও গালওয়ান সীমান্তে ইন্দো-চায়না বর্ডারে জীবনের সোনালি সময় অতিবাহিত করার পর এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

এই ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের ১৫ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও দেশ রক্ষা করা সেনাকর্তার নামই কেন তালিকা থেকে বাদ গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর মেয়ে সিমরান আলি। একই সুর শোনা গিয়েছে স্থানীয় রাজনীতিকদের কণ্ঠেও। বাদুড়িয়ার স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, যাদের ত্যাগে দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়, তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অনভিপ্রেত। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কর্মপদ্ধতি ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘ ৩০ বছরের সামরিক কর্মজীবনে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় লড়া এক সেনার নাম কেন বিচারাধীন তালিকায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রবীণ সুবেদারের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি দাবি করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে, এখন সেটাই দেখার। তবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার এই অভিজ্ঞতা রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার উপরেও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *