জাল ভোটার কার্ড নিয়ে মমতার বিস্ফোরক চিঠি, এবার নানুরে ‘বড় খেলা’র হুঁশিয়ারি

নানুরের জনসভা থেকে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে জমি দখল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং বিভাজনমূলক রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এদিন অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে বিজেপি নিজেদের হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এই জনসভা থেকেই আগামী দিনে ‘বড় খেলা’ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজেপির কোনো ভূমিকা ছিল না বলে কটাক্ষ করে তিনি জানান, তারা কেবল মিথ্যে বলছে এবং বাংলার টাকা লুঠ করছে। রামনবমীর মতো উৎসবে অস্ত্র প্রদর্শনের সংস্কৃতি নিয়েও তিনি গেরুয়া শিবিরের সমালোচনা করেন।
এদিকে, কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কার্যালয়ে ‘ফর্ম-৬’ সংক্রান্ত গণ-আবেদন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার জাল আবেদনপত্রের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত ও বাইরের লোকেদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। মমতা একে ‘ভোটার হাইজ্যাক’ করার প্রচেষ্টা এবং অসাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জানান, কে অফিসে কী জমা দিচ্ছে তা তদারকি করা তাঁর কাজ নয়। রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচন পরিচালনা করাই তাঁর মূল দায়িত্ব। প্রশাসনিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই মমতার ‘বড় খেলা’র মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সঠিক ভোটার তালিকা বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে রাজ্য রাজনীতি এখন তুঙ্গে।