পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব খতিয়ে দেখতে আজ ফের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আজ সন্ধ্যায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা সিসিএস-এর এই বিস্তৃত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। মূলত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এই সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২২ মার্চ একই ধরনের একটি বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং বিদেশ মন্ত্রী ছাড়াও কৃষি, বাণিজ্য, রেল ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকতে পারেন। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য, সার ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবার জোগান কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা দিতে পারেন। বিশেষ করে খরিফ মরসুমের আগে সারের জোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প আমদানির উৎস খোঁজা এবং কয়লার মজুত খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি গুজরাতের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে ডিজেল, পেট্রল ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে কার্যকর বিদেশনীতির মাধ্যমে ভারতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকে সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে কঠোর পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোদী সরকার দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশল সাজাচ্ছে। একদিকে রাহুল গান্ধী যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জেরে ‘আর্থিক ভূমিকম্পের’ সতর্কতা দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে।