ইরানে ক্ষমতার লাগাম কি সেনার হাতে? সুপ্রিম লিডারকে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

ইরানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সেদেশের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কার্যত প্রশাসনিক ও সামরিক সমস্ত সিদ্ধান্ত নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাশ কাটিয়ে একটি বিশেষ ‘মিলিটারি কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে, যারা এখন দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনা করছে। মার্কিন হামলার জুতসই জবাব দেওয়ার অজুহাতে সেনার এই সক্রিয়তা তেহরানের অন্দরে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মোজতবা কি কোমায় আছেন নাকি গুরুতর অসুস্থ, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেনার পক্ষ থেকে তাঁর চারপাশে এমন এক কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্টও তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাচ্ছেন না। এমনকি সুপ্রিম লিডারের নামে কেবল রেকর্ড করা বার্তা বা লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছে, যা জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধছে।
প্রেসিডেন্ট ও IRGC-র মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালানো নিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আসাম্মতি সত্ত্বেও সেনা নিজস্ব কৌশলে অনড় রয়েছে। গোয়েন্দা প্রধান নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে IRGC নির্বাচিত সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে ভেঙে পড়া অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তৈরি হওয়া এই সামরিক বাহিনী এখন ইরানের তেল, ব্যাংকিং ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অঞ্চলেরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে এখন নির্বাচিত সরকারের চেয়ে সামরিক শক্তির প্রভাবই প্রধান হয়ে উঠেছে। সুপ্রিম লিডারের রহস্যজনক অনুপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাহীনতা দেশটিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ সেনার হাতে থাকায় এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কট আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের এই সংঘাত ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।