জ্বালানি সংকট নিয়ে ছড়ানো গুজবে কান দেবেন না, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করল কেন্দ্র

দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। মূলত সাধারণ মানুষকে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা দিতে ভারত সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর ক্ষতিপূরণ বাবদ গত অর্থবর্ষের ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্যও ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের প্রতিটি রিফাইনারি বা শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং আগামী দুই মাসের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপানো হয়নি। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রায় ৯২ শতাংশ বুকিং বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। জ্বালানি নিয়ে গুজব ছড়ানো রোধ করতে রাজ্য সরকারগুলোকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্য়েই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিমান জ্বালানি (এটিএফ) এবং ডিজেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে রপ্তানির ওপর বিশেষ লেভি আরোপ করেছে সরকার। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন যাতে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে চলছে। নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করে ইতিমধ্য়েই বহু ভারতীয় ছাত্র ও নাগরিককে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।