বেরুত হামলায় হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের প্রধান হাশেম খতম

লেবাননের রাজধানী বেরুতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর এক সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার হাজি ইউসুফ ইসমাইল হাশেম নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সম্পন্ন হওয়া এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সম্পর্কে বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতার মৃত্যু সশস্ত্র গোষ্ঠীটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলের জন্য এটি বড় ধরনের সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাজি ইউসুফ ইসমাইল হাশেম দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সংগঠনটির দক্ষিণ ফ্রন্টের পূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, যার অধীনে ছিল নাসির, আজিজ এবং বদর ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো। আইডিএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোসহ গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর অসংখ্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই হাশেম।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় হাসান নাসরুল্লাহ এবং আলী কারাকি নিহত হওয়ার পর হাশেম দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ড গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নতুন করে গোষ্ঠীটির সামরিক ইউনিটগুলোকে সংগঠিত করা এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে আক্রমণ তীব্র করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট এবং নর্দান কমান্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে হাশেমের মৃত্যুতে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যুদ্ধ করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মুহূর্তে এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড হিজবুল্লাহর রণকৌশলকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। হাশেমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সীমান্ত এলাকায় গোষ্ঠীটির সামরিক কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা আসেনি, তবে এই ঘটনার জেরে লেবানন সীমান্তে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।