এআই বিপ্লবে বিপন্ন কর্মসংস্থান, আধুনিক দক্ষতাই কি এখন টিকে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান জয়যাত্রা বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানে এক অভূতপূর্ব সংকট ও রূপান্তর তৈরি করেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি হারানো এবং পরবর্তীকালে সস্ত্রীক আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের অন্ধকার দিকটিকে সামনে এনেছে। শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র নয়, বরং পাবলিশিং থেকে শুরু করে মানবসম্পদ উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই-এর ব্যবহার বাড়ায় বহু মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের খরচ কমাতে অভিজ্ঞ কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে চ্যাটজিপিটি বা ক্লড এআই-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কোডিং বা অনুবাদের মতো কাজগুলো এআই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করতে সক্ষম। ফলে অনেক সংস্থা তাদের জনবল কমিয়ে আনছে। জাভা কোডিং বা সাধারণ ট্র্যান্সলেশনের মতো প্রচলিত দক্ষতাগুলো এখন আর চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তবে এই পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ব্যাংকিং বা আডিটিং-এর মতো উচ্চ সুরক্ষাসম্পন্ন ক্ষেত্রে এআই কর্মীদের কাজের গতি ও গুণমান বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। হিউম্যান রিসোর্স বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাকরি হারানো নয় বরং প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আপগ্রেড করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে কর্মীদের প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই-চালিত টুলস ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র সফটওয়্যার খাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা চিপ তৈরির মতো বিকল্প ক্ষেত্রগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদনমুখী শিল্পে গুরুত্ব দিলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। মোদ্দা কথা, প্রযুক্তির এই জোয়ারে যারা নিজেদের দক্ষতাকে নতুন করে ঝালিয়ে নিতে পারবেন না, পেশাদার দুনিয়ায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এআই-কে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।