রাহুলের মৃত্যু বিতর্কে তদন্তের স্বার্থে মহিলা কমিশনের পদ ছাড়তে পারেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলা বিতর্কের মাঝেই বড় ঘোষণা করল প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’। সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। শুটিং সেটে দুর্ঘটনার প্রকৃতি ও পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের মুখে কোনও পক্ষপাতের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আগাম পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রযোজনা সংস্থাটি লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে লীনা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি মূলত লেখক এবং ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবেই কাজ করেছেন। ২০১১ সালে বোর্ড মেম্বার হলেও তিনি কখনও প্রোমোটার বা অপারেশনাল এক্সিকিউটিভ ছিলেন না। সম্প্রতি তাঁকে কো-প্রোডিউসারের ক্রেডিট দেওয়া হলেও তাঁর ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ সৃজনশীল। মিডিয়া ও জনমানসে সংস্থাটিকে শুধুমাত্র লীনার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচার করার বিষয়টিও সংশোধন করেছে তারা।
রবিবার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় রাহুলের মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে আইনি মহল পর্যন্ত। মৃত অভিনেতার পরিবার ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুটিং সেটের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য গাফিলতি নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই প্রযোজনা সংস্থা তিন দিন পর মুখ খুলল। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই লীনা গঙ্গোপাধ্যায় নিজের সরকারি পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জনপ্রিয় এই অভিনেতার অকালপ্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্র মহলে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার অভাব নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের ভবিষ্যৎ ও সত্য উদঘাটনে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এমন অবস্থান এবং প্রযোজনা সংস্থার বিবৃতি আইনি লড়াইয়ে নয়া মোড় আনতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।