একদিকে দিচ্ছেন মমতা অন্যদিকে কেড়ে নিচ্ছেন মোদী, শীতলকুচির জনসভা থেকে তোপ অভিষেকের

বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শীতলকুচির এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের হাতে আর্থিক স্বস্তি তুলে দিচ্ছেন, তখন মোদী সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। ১৯৫.৫০ টাকা বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকারের নীতির কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক দাবি করেন, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প—কোনো ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গকে প্রাপ্য অর্থ দিচ্ছে না কেন্দ্র। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, কোচবিহারের একজন ব্যক্তিও যদি কেন্দ্রের আবাস প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকেন, তবে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তা প্রমাণ করা হোক। এমনকি ১০০ দিনের কাজে একজন সুবিধাভোগীকেও যদি কেন্দ্র টাকা দিয়ে থাকে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও হুঙ্কার দেন। বিজেপি বিধায়কদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে উত্তরবঙ্গ থেকে জয়ী হওয়া বিজেপি প্রতিনিধিরা স্থানীয় মানুষের উন্নয়নে কোনো কাজ করেননি।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে অভিষেক জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চতুর্থ মেয়াদেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আজীবন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করবে। এছাড়াও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কেন্দ্রীয় তহবিল ছাড়াই প্রতিটি বাড়িতে পাইপলাইনের পরিশ্রুত পানীয় জল এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে বার্ধক্য পেনশন দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্লক স্তরে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে ২০২১ সালের শীতলকুচি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে অভিষেক স্থানীয় মানুষকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, যেখানে বিজেপি বিধায়করা জয়ের পর মানুষের কথা ভাবেননি, সেখানে তৃণমূল সরকার মানুষের পাশে থেকে দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিরোধীদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।