সিপিএমের হেভিওয়েটদের রুখতে তৃণমূলের তুরুপের তাস প্রতীক উর রহমান

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মোকাবিলায় ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র রণনীতি গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরপাড়া, যাদবপুর ও জলহাটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে বামেদের কড়া জবাব দিতে প্রাক্তন সিপিএম নেতা তথা বর্তমানে তৃণমূলের মুখপাত্র প্রতীক উর রহমানকে ময়দানে নামানো হয়েছে। সিপিএমের অন্দরের সাংগঠনিক ফাঁকফোকর এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কাজের ধরন সম্পর্কে প্রতীক উর ওয়াকিবহাল হওয়ায়, তাঁকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূল সূত্রের খবর, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও কলতান দাশগুপ্তদের মতো প্রার্থীদের প্রচারের পালটা হিসেবে প্রতীক উর রহমানকে জনসভা ও রোড-শো করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বেই তিনি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ বাম নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন। প্রাক্তন রাজনৈতিক সতীর্থদের বিরুদ্ধে সরাসরি ময়দানে নেমে প্রতীক উর যেভাবে আক্রমণ শানাচ্ছেন, তাতে লাল শিবিরের অন্দরে স্নায়ুর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের আসনগুলোতে তাঁর প্রচারের প্রভাব বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই বারুইপুর ও সোনারপুরে রোড-শো সেরেছেন প্রতীক উর রহমান। বুধবার তাঁকে যাদবপুরের নির্বাচনী মিছিলে দেখা গিয়েছে এবং উত্তরপাড়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি অংশ নিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো, প্রতীকের মাধ্যমে সিপিএম প্রার্থীদের অতীত ইতিহাস ও সাংগঠনিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। বৃহস্পতিবার আমডাঙা, জলহাটি ও উত্তর ব্যারাকপুরে তাঁর প্রচার কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া ৭ এপ্রিল জয়নগর ও কাকদ্বীপেও তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রতীক উর রহমানের দলবদলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সিপিএমের হেভিওয়েটদের জয়রথ থামানোই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা জনসভা, অন্যদিকে নিচুতলায় প্রাক্তন বাম নেতার তীক্ষ্ণ আক্রমণ— এই দ্বিস্তরীয় কৌশলে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে মরিয়া শাসক দল। শেষ পর্যন্ত ‘সেয়ানে সেয়ানে’ এই টক্কর নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।