এপ্রিল ফুল দিবসের নেপথ্য ইতিহাস এবং বন্ধুদের বোকা বানানোর কিছু মজার কৌশল

এপ্রিল ফুল দিবসের নেপথ্য ইতিহাস এবং বন্ধুদের বোকা বানানোর কিছু মজার কৌশল

পহেলা এপ্রিল মানেই চারপাশে হাসি-ঠাট্টা আর একে অপরকে বোকা বানানোর হিড়িক। তবে এই ‘এপ্রিল ফুল’ দিবসের নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৮২ সালে ফ্রান্সে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হওয়ার সময় থেকেই এর সূচনা। যারা ক্যালেন্ডারের এই পরিবর্তন বুঝতে না পেরে ১ এপ্রিলেই নববর্ষ পালন করতেন, তাদের বিদ্রূপ করতেই মূলত এই প্রথার জন্ম হয়। ফ্রান্সে তাদের পিঠে কাগজের মাছ লাগিয়ে দিয়ে ‘এপ্রিল ফিশ’ বলে মজা করা হতো।

সময়ের সাথে সাথে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্রিটেনে ১৮শ শতকে এই প্রথা ছড়িয়ে পড়ে, আবার স্কটল্যান্ডে এটি দুই দিন ধরে পালিত হয়। শুধু ঐতিহাসিক কারণই নয়, অনেকে বসন্তের অনিশ্চিত আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনাকেও প্রকৃতির পক্ষ থেকে মানুষকে বোকা বানানোর সাথে তুলনা করেন। রোমের প্রাচীন ‘হিলারিয়া’ উৎসবেও ছদ্মবেশে একে অপরকে নিয়ে তামাশা করার রীতি প্রচলিত ছিল, যা এই দিবসের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

বর্তমানে এই দিনে সহকর্মী বা বন্ধুদের সাথে নির্ভেজাল আনন্দ ভাগ করে নিতে নানা প্র্যাঙ্ক করা হয়। যেমন সহকর্মীর মাউসের সেন্সরে টেপ লাগানো বা ডেস্কটপের স্ক্রিনশটকে ওয়ালপেপার বানিয়ে দেওয়া। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জুসে ফুড কালার মিশিয়ে বা চকোলেটের মোড়কে মজার নোট রেখেও আনন্দ পাওয়া যায়। তবে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও মানবিকতার খাতিরে এটি মনে রাখা জরুরি যে, কোনো রসিকতা যেন অপরের জন্য ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক হয়ে না ওঠে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *