চৈত্র পূর্ণিমা ২০২৬: জানুন দিনক্ষণ শুভ মুহূর্ত ও পুজোর বিশেষ নিয়মাবলী

২০২৬ সালের ২ এপ্রিল দেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র চৈত্র পূর্ণিমা। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি নববর্ষের প্রথম পূর্ণিমা, যার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতে নিষ্ঠাভরে স্নান, দান এবং উপবাস করলে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে। শাস্ত্র মতে, এই পবিত্র দিনেই পবনপুত্র হনুমানজীর জন্ম হয়েছিল, তাই অনেক স্থানেই দিনটি হনুমান জয়ন্তী হিসেবে অত্যন্ত ধুমধাম করে পালিত হয়।
চৈত্র পূর্ণিমার দিন একাধিক শুভ যোগ ও মুহূর্ত রয়েছে যা পুজোর জন্য অত্যন্ত প্রশস্ত। পঞ্জিকা অনুসারে, এদিন ভোর ৪:৩৮ থেকে ৫:২৪ পর্যন্ত থাকছে ব্রহ্ম মুহূর্ত। এছাড়া দুপুর ২:৩০ থেকে ৩:২০ পর্যন্ত বিজয় মুহূর্ত এবং সন্ধ্যা ৬:৩৮ থেকে ৭:০১ পর্যন্ত গোধূলি বা সন্ধ্যা মুহূর্ত বজায় থাকবে। মধ্যরাত্রে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য রাত ১২:০১ থেকে ১২:৪৭ পর্যন্ত নিশিত মুহূর্তের সময়কাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই বিশেষ সময়ে উপাসনা করলে অধিক পুণ্য অর্জিত হয় বলে মনে করা হয়।
পূর্ণিমার পুজোর জন্য ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে ভগবান বিষ্ণু, চন্দ্রদেব এবং বজরংবলীর আরাধনা করা উচিত। পুজোর স্থানে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে ফুল, তুলসী ও অক্ষত অর্পণ করে মন্ত্র জপের মাধ্যমে উপবাসের সংকল্প নেওয়া বিধেয়। এদিন পবিত্র নদীতে স্নান করা বা বাড়িতে স্নানের জলে গঙ্গাজল মিশিয়ে নেওয়া বিশেষ ফলদায়ক। পুজোর শেষে সামর্থ্য অনুযায়ী অন্ন, বস্ত্র, গুড় বা ঘি দান করলে জাতকের জীবনে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং অমঙ্গল দূর হয়।