মুর্শিদাবাদে ওয়াইসি-হুমায়ুন জুটির হুঙ্কার, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে কি এবার ধস নামবে

মুর্শিদাবাদে ওয়াইসি-হুমায়ুন জুটির হুঙ্কার, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে কি এবার ধস নামবে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে তুলে বুধবার নওদার ডুবতলা মাঠে এক বিশাল জনসভা করলেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বাধীন এজেউপি (AJUP) প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেস জোটকেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ওয়াইসির স্পষ্ট অভিযোগ, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো সরকারই আন্তরিক ছিল না।

জনসভায় ওয়াইসি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সংখ্যালঘু ভোটাররা কংগ্রেস, বাম এবং তৃণমূলকে সমর্থন দিলেও তাঁদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলার মুসলিমদের এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সময় এসেছে। নিজেদের অধিকার ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্য থেকেই শক্তিশালী নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা দিতেই তাঁরা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন বলে ওয়াইসি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় মিম-প্রধানের এই সক্রিয়তা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পারে। বিশেষ করে নওদার সভায় উপচে পড়া ভিড় শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের মেরুকরণ আটকাতে তৃণমূল যেখানে তৎপর, সেখানে ওয়াইসির এই রণহুঙ্কার নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসন্ন দুই দফার নির্বাচনে এই জোট অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে। মুর্শিদাবাদে ওয়াইসি এবং হুমায়ুন কবিরের এই যৌথ প্রচার শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। আজকের সমাবেশ থেকে ওয়াইসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এবারের লড়াইয়ে তাঁরা এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *