হরমুজ় সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের হাহাকার এপ্রিলে দ্বিগুণ সরবরাহে বাধার আশঙ্কা আইইএ-র

ইরান কর্তৃক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী অবরোধের জেরে আগামী এপ্রিল মাসে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার মাত্রা দ্বিগুণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল বুধবার সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত মাসের তুলনায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে ইউরোপে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ইতিমধ্যে এশিয়ার বাজারগুলোতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন ও সরবরাহ থমকে গিয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে ইরান কার্যত এই জলপথটি বন্ধ করে রাখায় কুয়েত ও ইরাকের মতো রফতানিকারক দেশগুলো বিপাকে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো ধ্বংসের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও তেহরান অবরোধ সরানোর কোনো লক্ষণ দেখায়নি, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
এই অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আইইএ-র আশঙ্কা, উচ্চমূল্য এবং ঘাটতির এই লড়াইয়ে উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ দীর্ঘমেয়াদী বন্ধ থাকলে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।