গুজরাটিদের নিয়ে মহুয়ার মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক, ড্যামেজ কন্ট্রোলে স্বয়ং মমতা

নির্বাচনী আবহে গুজরাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদান বর্ণনা করতে গিয়ে গুজরাটিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিজেপি তৃণমূলকে ‘গুজরাটি বিরোধী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বিশেষ করে ভবানীপুর অঞ্চলের গুজরাটি ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসরে নামতে হয়েছে।
সাংসদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে গুজরাটি ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, সেখানে কাউন্সিলর অসীম বসুর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান যে দল এই ধরনের মন্তব্য সমর্থন করে না এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর গুজরাটি ভাই-বোনদের নিয়ে গর্বিত। হিন্দি, ইংরেজি ও গুজরাটি—তিন ভাষাতেই এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয় যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে।
তৃণমূলের অন্দরেও মহুয়ার এই আচরণে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের একটি বড় অংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যখন সর্বস্তরের মানুষকে একজোট করার চেষ্টা করছেন, তখন এই ধরনের মন্তব্য হিতে বিপরীত হতে পারে। দলীয় অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই মহুয়া এই মন্তব্য করেছিলেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করার কৌশলে যাতে সাধারণ অবাঙালি ভোটাররা ক্ষুব্ধ না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই ত্বরিত পদক্ষেপ।
ভোটের মুখে এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে গুজরাটি ভোটারদের মন জয় করা ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাংসদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানানো হলেও, নির্বাচনের ময়দানে এই বিতর্কের রেশ কতদূর গড়ায় এবং ভোটারদের মেরুকরণে তা কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।